করোনা মহামারিতে বিশ্ববাজারে খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি অব্যাহত।

 স্টাফ রিপোর্টার, ডেইলি সুন্দরবন : আন্তর্জাতিক বাজারে করোনা মহামারির কারণে  টানা সাত  মাসের মতো খাদ্যপণ্যের দাম বেড়েছে। গত জুন থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত দামের এই  বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রয়েছে। তিন বছরের মধ্যে  ২০২০ সালে বিশ্ববাজারে খাদ্যপণ্যের দাম সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে।

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফওএ) ‘এফএও ফুড প্রাইস ইনডেক্স (এফএফপিআই)’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে । ইতালির রোমে সংস্থাটির প্রধান কার্যালয় থেকে বৃহস্পতিবার রাতে এটি প্রকাশ করা হয়। দুগ্ধজাত পণ্য আর ভোজ্যতেলের দাম খুব বেশি পরিমাণে বেড়েছে বলেই ডিসেম্বরে বৈশ্বিক খাদ্যপণ্যের দর বৃদ্ধি পেয়েছে। বৈশ্বিক খাদ্যপণ্যের (খাদ্যশস্য, তেলবীজ, দুগ্ধজাত পণ্য, মাংস ও চিনি) বাজার নিয়ে প্রতিমাসে প্রতিবেদন প্রকাশ করে এফএও।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোভিড-১৯ মহামারির কারণে কয়েক মাস ধরে বৈশ্বিকভাবে খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ডিসেম্বরেও দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। গত মাসে খাদ্য ও কৃষি সংস্থার খাদ্যপণ্যের মূল্যসূচক দাঁড়িয়েছে ১০৭ দশমিক ৫ পয়েন্টে। আগের মাসের তুলনায় সূচক বেড়েছে ২ দশমিক ২ শতাংশ।

এফএও জানায়, আন্তর্জাতিক বাজারে খাদ্যশস্যের দাম ২০২০ সালে তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়, তবে তা পূর্বাভাসের চেয়ে কম ছিল। সংস্থাটির খাদ্যশস্যের গড় সূচক গত বছর ছিল ৯৭ দশমিক ৯ শতাংশ। আর ২০১৯ সালের চেয়ে মূল্যসূচক ৩ দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে। যদিও গত বছরের খাদ্য দ্রব্যের মূল্যসূচক ২০১১ সালে রেকর্ড সর্বোচ্চ অবস্থানের চেয়ে ২৫ শতাংশ কম রয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডিসেম্বরে চাল, গম, ভুট্টা, জোয়ার ও বার্লির রফতানিমূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা এবং রুশ ফেডারেশন অঞ্চলে উৎপাদন পরিস্থিতি নিয়ে শঙ্কার কারণে দাম বেড়েছে। চালের রফতানিমূল্য ২০১৯ সালের চেয়ে গত বছর ৮ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে। অন্যদিকে ভুট্টা ও গমের রফতানিমূল্য বেড়েছে যথাক্রমে ৭ দশমিক ৬ ও ৫ দশমিক ৬ শতাংশ।

এফএও বলছে, ডিসেম্বরে ভোজ্যতেলের গড় মূল্যসূচক ৪ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে, যা নভেম্বরে ১৯ শতাংশ বেড়েছিল। ২০১২ সালের সেপ্টেম্বরের পর ভোজ্যতেলের দাম ডিসেম্বরে সর্বোচ্চ। ভোজ্যতেলের গড় মূল্য ২০১৯ সালের তুলনায় গত বছর ১৯ দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে। এর কারণ, বিশ্বজুড়ে মহামারির প্রকোপ। নভেল করোনাভাইরাসে মানুষ ঘরবন্দি হয়ে থাকায় বিশ্বজুড়ে ভোজ্যতেলের উৎপাদন শ্লথ হয়ে এসেছে। এ ছাড়া গত মাসে বাজারে পামওয়েল  ও সয়াবিন তেল সব পণ্যের দামই বৃদ্ধির দিকে ছিল।

২০২০-২১ মৌসুমে বিশ্বব্যাপী চিনির উৎপাদন বেড়ে যাওয়ার খবরে পণ্যটির দাম ডিসেম্বর মাসে কমেছে। চিনির গড় মূল্যসূচক ৭৯ পয়েন্ট, নভেম্বর মাসের তুলনায় চিনির মূল্যসূচক কমেছে গড়ে দশমিক ৬ শতাংশ। মূলত ভারত ও ব্রাজিলে উৎপাদন বেড়ে যাওয়ার কারণেই চিনির মূল্য কমেছে। মাংসের মূল্যসূচকও বেড়েছে আগের মাসের তুলনায় ১ দশমিক ৭ শতাংশ। আর বছরের হিসাবে ২০১৯ সালের চেয়ে গড় মূল্যসূচক ৪ দশমিক ৬ শতাংশ কমেছে। এর পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে চীন। জার্মানি থেকে শূকরের মাংস আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশটি।

মূলত খাদ্যপণ্যের বাড়তি দামের মধ্য দিয়ে ২০২০ সালের শুরু হয়েছিল। জানুয়ারিতে বৈশ্বিক খাদ্যপণ্যের গড় মূল্যসূচক ছিল ১০২ দশমিক ৫ পয়েন্ট। পরের মাসে তা কমে দাঁড়ায় ৯৯ দশমিক ৪ পয়েন্টে। মার্চ ও এপ্রিলে বৈশ্বিক খাদ্যপণ্যের গড় মূল্যসূচক ছিল যথাক্রমে ৯৫ দশমিক ১ পয়েন্ট ও ৯২ দশমিক ৪ পয়েন্ট। মে মাসে খাদ্যপণ্যের বৈশ্বিক গড় মূল্যসূচক আরও কমে ৯১ পয়েন্টে নেমে আসে, যা আগের ১৭ মাসের মধ্যে সবচেয়ে কম।

যদিও টানা কয়েক মাসের পতন কাটিয়ে গত জুন মাসে বেড়ে যায় খাদ্যপণ্যের বৈশ্বিক গড় মূল্যসূচক। ওই মাসে খাদ্যপণ্যের বৈশ্বিক গড় মূল্যসূচক ছিল ৯৩ দশমিক ১ পয়েন্ট। জুলাইয়ে এ সূচক আগের মাসের তুলনায় ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ৯৪ দশমিক ২ পয়েন্টে। আর আগস্টে তা পৌঁছে ৯৫ দশমিক ৯ পয়েন্টে, যা ছিল ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। সেপ্টেম্বরে এ সূচক পৌঁছায় ৯৭ দশমিক ৯ শতাংশে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *